ঢাকা বুধবার, ২রা ডিসেম্বর ২০২০, ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭


কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী যে সকল গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ


ফাইল ছবি

প্রভাত ফেরী ডেস্ক: চাহিদা পূরণে মানুষ নানান রকম পশু-প্রাণীর গোশত খেয়ে থাকে। কিন্তু সব পশু-প্রাণী বা পাখির গোশ্‌ত খাওয়া ইসলামে বৈধ নয়। কুরআন ও হাদীসে যে সকল পশু-প্রাণীর গোশত নিষিদ্ধ বা হারাম করা হয়েছে তা হলো-

পশুপ্রাণী ও পাখির গোশ্‌ত খাওয়ার ক্ষেত্রে কুরআন হাদীসের কিছু বিধানের দিকে তাকালেই হালাল-হারাম নির্ণয় করা সহজ হয়ে যায়। তাই যেসব প্রাণীতে হারামের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাবে তা খাওয়া বৈধ নয়। বলা হয়েছে, হিংস্র দাঁতওয়ালা পশুপ্রাণী যা খাওয়া হারাম। যেমন-‘বাঘ-সিংহ, নেকড়ে বাঘ, চিতা বাঘ, হাতি, কুকুর, শিয়াল, শূকর, বিড়াল, কুমির, কচ্ছপ, সজারু ও বানর ইত্যাদি।’

আবার এমন কিছু পাখি আছে যেগুলো হিংস্র হওয়ার কারণে সেগুলো খাওয়াও হারাম। যেমন- ‘ঈগল, বাজ, শ্যেন, পেঁচা ইত্যাদি।’

গোশ্‌ত খাওয়ার ব্যাপারে ইসলামে যেসব পশু-পাখি খাওয়াকে হারাম করেছেন। সেসব পশুপ্রাণী ও পাখি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণাও দিয়েছেন রাসুল (সা:)। হাদীসে এসেছে- হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁতবিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র পশুপ্রাণী এবং নখ দিয়ে শিকারকারী প্রত্যেক হিংস্র পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।’ (মুসলিম)

আবার এমন কিছু পশুপ্রাণী আছে যেগুলোর গোশ্‌ত খেতে নিষেধ করেছেন। সেগুলো খাওয়া হারাম। যেমন : গৃহপালিত গাধা। হাদিসে এসেছে-

হজরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন (গৃহপালিত) গাধার গোশ্‌ত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশ্‌ত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)

অপর এক হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনু আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘খায়বারের যুদ্ধের দিন আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলাম, আর তখন আমাদের পাতিলগুলোতে (গাধার গোশত) টগবগ করে ফুটছিল।

তিনি (রাবী) বলেন, কোন কোন পাতিলের গোশত পাকানো হয়ে গিয়েছিল। এমন সময়ে রাসুল (সাঃ) এসে ঘোষণা দিলেন- ‘তোমরা (গৃহপালিত) গাধার গোশত থেকে একটুও খাবে না এবং তা ঢেলে দেবে।’ ইবনু আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘ঘোষণা শুনে আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যে, যেহেতু গাধাগুলো থেকে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করা হয়নি এ কারণেই তিনি সেগুলো খেতে নিষেধ করেছেন। কেউ কেউ বললেন, তিনি চিরদিনের জন্যই গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। কেননা গাধা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে।’ (বুখারি)

কুরআনেও কিছু পশুপ্রাণীর গোশ্ত হারাম করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো শুকর। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তোমাদের জন্য মৃতপ্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশ্‌ত হারাম করা হয়েছে।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৩)

অন্য আয়াতে কুরআনে বলা হয়েছে- ‘(হে রাসুল!) আপনি বলে দিন, যা কিছু বিধান ওহির মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, আহারকারী যা আহার করে তাতে তার জন্য আমি কোনো হারাম খাবার পাই না; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস—এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ। (সুরা আনআম : আয়াত ১৪৫)

নোংরা ও অপবিত্র কোনো কিছু খাওয়াও হারাম। তাই যে সব পশু ও পাখির মধ্যে নোংরা ও অপবিত্রতা পাওয়া যাবে তা খাওয়া যাবে না। কুরআনে বর্ণিত আছে- ‘তাদের জন্য তিনি (রাসুল) পবিত্র বস্তু হালাল করেন আর অপবিত্র বস্তু হারাম করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫৭)


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Top